লাগবে না তর প্রি-পেইড মিটার, ফেরত দে মোর হারিকেন!

ঢাকার জীবনযাপনের খরচ ইতিমধ্যে কানাডার টরেন্টো শহরের চেয়েও বেশি হয়ে গেছে! বিনিময়ে আমরা কি পাচ্ছিকোন সেবাটা ঠিকঠাক মতো মিলছেকোথায় পাবো এই প্রশ্নের জবাব?

অথচ আজ একজন বিদ্যুৎ মিটার রাইডার যে বাসা বাড়ি ঘুরে বিল লিখত সে আজ দলীয় এমপিশত কোটি টাকার মালিক! সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াজুদ্দিন আহম্মেদের গড়া বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে নিয়েছে। যা ইচ্ছে তাই করছে আর করবেইবা না কেন?

এগুলো কি এভাবেই হয়। পাব্লিক এখন কেন জানি সইতে সইতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এক সাপ্তাহিক ছুটির বিকেলে বাড়িওয়ালা এসে একটা এটিএম কার্ড হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো, ‘আপনাদের বিদ্যুতের মিটার পরিবর্তন হয়েছে। এখন থেকে প্রি-পেইড মিটার! আগে বিল দিনপরে বাত্তি জালান’!

আমরা খুব বিরক্ত হইলাম। আমরা কর্মজীবী মানুষ। আমাদের পক্ষে এটা মনে রাখা খুবই মুশকিল যেকবে আগের মাসের বিল দিয়েছি। ব্যালেন্স কত আছে। কবে পরের বিল দিতে হবেইত্যাদি। ঠিকভাবে মনে রাখতে না পারলে হুট করেযে কোন ছুটির দিনে অথবা মধ্যরাতে বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে। বাকি রাতটা কি তখন অন্ধকারে কাটাবো

কিন্তু আমাদের বিরক্তিতে কারো কিছু আসে যায় না। এটাই নাকি নিয়ম! অতএবগজগজ করে হলেও সেটা না গিলে উপায় নেই। গতকাল রাতে জানা গেল যেআমাদের মিটারে লাল বাতি দেখাচ্ছে

ফলে অফিস থেকে ফিরে রিচার্জ করতে গেলাম। বাসা থেকে ৪০ টাকার রিকশা ভাড়ার পথ। যাওয়া-আসা ৮০ টাকা। এই ভর রাতেও লম্বা লাইন। ২০০০ টাকা রিচার্জ করলাম। ১৬৮৪ টাকা আমার একাউন্টে জমা হয়েছে। বাকি ৩১৬ টাকা সঙ্গে সঙ্গে গায়েব হয়ে গেছে

সার্ভিস চার্জ নাকি ২০ টাকা। কিসের সার্ভিস চার্জযারা ওখানে কাজ করছে তাদেরঅফিস ভাড়াকর্মচারীদের বেতনসেটা কি সরকার দিচ্ছে নাএসবের কোন একটা হলেওসেটা আমি কেন দিবোআগের মতো বাড়ি বাড়ি মিটার রিড করার ব্যাপার নাই। তাহলে সার্ভিসটা কিসের?

ডিমান্ড চার্জ ১২০ টাকা। কিসের ডিমান্ডকার ডিমান্ডকে ডিমান্ড করেছেআমি জিজ্ঞেস করেছিলামতারা জবাব দিতে পারে নাই। আমি অনেক চেষ্টা করেও এই লাইনের অর্থ উদ্ধার করতে পারি নাই

ভ্যাট ৯৫ টাকা! সরকার জনগণের টাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেঅথবা ক্রয় করছে। সেই বিদ্যুৎ আবার জণগনের কাছে অত্যন্ত উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে

বছর বছর সেই বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। আমার টাকায় কেনা বিদ্যুৎ আমার কাছে বিক্রি করছেআবার সেই বিদ্যুতের দামের উপর ভ্যাটএটা কেমন কথা?

এর পরেরটা আরও অদ্ভুত! আমাকে জোর করে একটা মিটার ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি তো চাইনি এই প্রি-পেইড মিটারএখন আমার কাছ থেকে আবার সেই মিটারের দাম রাখা হচ্ছে

আমি তো এই বাসায় ভাড়াটিয়াযদি মিটারের দাম কেউ দিতে হয়তাহলে সেটা হয়তো সরকার দেবে অথবা বাড়িওয়ালা দেবে। আমি কেন দেবোআমি কি এই বাসা ছেড়ে যাওয়ার সময় এই মিটার খুলে নিয়ে যাবো?

২০০০ টাকা অগ্রিম দেয়ার পর যদি ৩১৬ টাকা নাই হয়ে যায়খুব গায়ে লাগে না বলুন তোপ্রায় সব ধরনের সব্জির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা!

পেঁয়াজের কেজি ৮০/৯০ টাকা! চালের দামের কথা আর নাই বা বললাম। এই শহরেযেখানে ৩৮ ভাগ মানুষ বস্তিতে থাকেতার ঘর সংসার কে সামলাবেকোত্থেকে আসবে এত রোজগার?

 

তাই বলছি মাননীয় জ্বালানী মন্ত্রী আপনি আপনার মিটার নিয়া যান। আমার হারিকেন আমারে ফিরাইয়া দেন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

×

Hello!

Click one of our representatives below to chat on WhatsApp or send us an email to [email protected]

× How can I help you?