মিরপুর যাওয়ার পথে অজ্ঞান ০৩ যাত্রী!!!

jam

মিরপুর হল বাংলাদেশের ঢাকার খুব কাছেই অবস্থিত একটি জনপদ। এই জনপদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল যে এখানকার মানুষকে আদর করে ডাকা হয় “গরীবের রেড ইন্ডিয়ান” বলে। এই জনপদে বসবাসকারী মানুষদেরকে আবার লিভিং ফসিল বা জীবন্ত জীবাশ্ম ও বলা হয়ে থাকে। বাজারে প্রচলিত যে, মিরপুরে সকাল হয় পাঁচ মিনিট পরে, কারন সূর্যের আলো এখানে পাঁচ মিনিট দেরী করে আসে।

Contact Of Sales Agent For Buying Ticket

banner
লোকে মজা করে বলে থাকে যে মেট্রো রেলের কারনে সূর্যের আলো জ্যামে পরে, তাই এসে পৌছতে দেরী হয়ে যায়। বর্ষাকালে এই জনপদের মানুষের একমাত্র চলাচলের বাহন খেয়া নৌকা। তখন রাস্তা জলে সম্পূর্ণ ডুবে যায়। অনেকে তো আবার সাঁতরে স্কুল, কলেজ এবং অফিসে জাতায়াত করেন। এখানকার যোগাযোগ ব্যাবস্থা খুবই দুর্বল, ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় নেই বললেই চলে, কারন আপাত দৃষ্টিতে জায়গাটি উন্নত হলেও সামান্ন কিছু কারনে প্রায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং বা নেট অফ হয়ে গিয়ে থাকে। রাস্তাঘাটের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়, জ্যাম এখানকার এক দৈনন্দিন ঘটনা।

travel

পাবলিক বাসের অবস্থাও যেন এখানে লক্কর ঝক্কর। পুরাতন এবং হাজার বছরের ধ্বংসাবশেষ বাস এখানে দেখতে পাওয়া যায়। এসব বাস মিরপুর বাসীদের যাতায়তের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করছে অনেকদিন ধরেই। তকাল ইফতারির আগে একটি বাজে ঘটনা ঘটেছে এখানে।

যদিও দুঃসংবাদ তাদের নিত্যসঙ্গী। নতুন করে দুঃসংবাদ তাদের জন্যে জল ভাত। এই মিরপুর যাওয়ার পথেই পাবলিক বাসে অজ্ঞান হয়ে যান ৩ জন। জানা যায় সারাদিন পর অফিস শেষে তারা  বাসায় ফিরছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ওই তিন ব্যাক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য।

জ্ঞান ফিরলে তাদের এর কারন জিজ্ঞেস করা হয়, তাতে এক জন বলেন যে “আর বইলেন না রে ভাই। অনেক ঠেলাঠেলি করে ধাক্কায়া ধুইক্কায়া বাসে কোনমতে উঠছিলাম। আমরা তো জানি আমরা কখনোই বাসায় ঠিক টাইমে গিয়া ইফতারি করতে পারুম না। তবুও মানুষ আশায় বাঁচে। স্বপ্ন দেখার অধিকার কি মিরপুরের মানুষের নাই ? তাই বাসে উঠসিলাম। কিন্তু কে জানতো এরকম হবে। এতো ভীড়! এত মানুষ। তার উপর গরম।

পাশে দাড়ায়া ছিল মোটা করে এক ভদ্রলোক। কিছুক্ষন পরপর ঘাম মুছতে ছিল। আমার নাকে আসতে ছিল তার ঘামের গন্ধ। আমি একটু ফাঁক করেই তার পাশেই ডুকে পড়ি। তারপর কি হয়েছে আর বলতে পারবো না। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি।” ডাক্তার প্রাথমিকভাবে ধারনা করেছেন ঘামের গন্ধেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।

Leave a Reply