বাংলাদেশে ‘বিলুপ্তপ্রায়’ নেকড়ের সন্ধান, অতঃপর হত্যা

সম্প্রতি বরগুনার তালতলী উপজেলায় ফাঁদ পেতে একটি নেকড়েকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নেকড়েটি গ্রামে গবাদি পশু শিকারের জন্য এসেছিল।

অনুসন্ধানের পর এটি পরিষ্কার হওয়া গেছে যে, প্রাণীটি নেকড়ে ছিল। ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউটের প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান সংরক্ষণ বিভাগের প্রধান ড. যাদভেন্দ্রাদেব ভি ঝালা এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ গবেষণা ইউনিটের প্রধান জীববিজ্ঞানী ড. জন এফ কামলেরও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Contact Of Sales Agent For Buying Ticket

banner

এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নেকড়ে আবিষ্কার এবং নিশ্চিতকরণ শুধুমাত্র উত্তেজনাপূর্ণ নয় বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সংরক্ষণের জন্য অবিশ্বাস্য সুযোগ।

এটা মনে করা হয় যে, ১৯৪০ দশক পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে ধূসর নেকড়ে (স্থানীয়ভাবে নেকড়ে বাঘ নামে পরিচিত) ছিল।

১৯৪০ সালের একটি পুরোনো রেকর্ড অনুসারে, নোয়াখালীতে একটি নেকড়ে দেখা গিয়েছিল বলে ধারণা ছিল, যা পূর্ববর্তী সীমার থেকে অনেক দূরে ছিল, যা নিখুঁত প্রমাণ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে না।

বাংলাদেশের আইইউসিএন রেড লিস্টের মতে, এক শতাব্দীদে ১১ স্তন্যপায়ী প্রাণী নিশ্চিতভাবে নথিভুক্তির অভাবের কারণে আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রাচীন প্রাণীটির যা অবশিষ্ট ছিল তা ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে হ্রাস পেয়েছে।

সৌভাগ্যক্রমে ২০১৭ সালে সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে একটি নেকড়ে দেখা যায় যা গবেষক সম্প্রদায়কে আন্দোলিত করে।

সম্প্রতি সুন্দরবনের সাথে দক্ষিণ বাংলার উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ জেলা বরগুনায় পাওয়া ওই প্রাণীর মৃতদেহের ছবি এটাই নিশ্চিত করে যে, এই প্রজাতি বেঁচে আছে।

পশুটির মৃত্যুর পরই তোলা ছবি অনুসন্ধানের জন্য বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। ছবিতে পশুটির বাইরের অংশ দেখেই তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি নেকড়ে। প্রাণিটির দেহ ব্যবহার করে আরও গবেষণা এবং ডিএনএ বিশ্লেষণের চেষ্টা চলছে।

travel

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মুন্তাসির হায়তায় এর পরিচয় নিশ্চিত করতে সংবাদটি তদন্ত করেন এবং আরও বিশ্লেষণ শুরু করেন।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক ইউএনবিকে বলেন, তারা নিহত বিলুপ্ত নেকড়ের কঙ্কাল সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। “কীভাবে নেকড়েটির কঙ্কাল সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়ে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকদের কাছ থেকে মতামত নিচ্ছি।”

তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই ঢাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগ নেকড়েটির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *